দীর্ঘ ৩৩ ঘণ্টার দর কষাকষি শেষে উন্নয়নশীল বিশ্বের জন্য জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পরিবেশ দূষণকারী বৃহৎ অর্থনীতির দেশগুলো বছরে ৩০০ বিলিয়ন ডলার দেয়ার ব্যাপারে সম্মত হয়েছে। আজারবাইজানের রাজধানী বাকুতে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের কপ-২৯ জলবায়ু সম্মেলনে এ জলবায়ু চুক্তিতে ঐকমত্যে আসে প্রায় ২০০টি সদস্য দেশ। জাতিসংঘের জলবায়ু সংস্থার প্রধান সাইমন স্টিল বলেছেন, ‘এটি কঠিন একটি যাত্রা ছিল। কিন্তু আমরা চুক্তি সম্পন্ন করতে পেরেছি।‘ খবর বিবিসি।
তবে এই আলোচনায় গত বছরে পাস হওয়া চুক্তির ওপর ভিত্তি করে নতুন কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি, যা দেশগুলোকে জ্বালানি তেলের ব্যবহার থেকে সরে যাওয়ার জন্য জোর দিতে পারে। উন্নয়নশীল দেশগুলো এবং যেসব দেশ জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ, তারা স্থানীয় সময় গতকাল শনিবার (২৩ নভেম্বর) দুপুরে আলোচনার স্থান ছেড়ে চলে যায়। ছোট দ্বীপ রাষ্ট্রগুলোর জোটের চেয়ারম্যান সেড্রিক শুস্টার বলেন, ‘আমি অতিরঞ্জিত করছি না যখন বলছি আমাদের দ্বীপগুলো ডুবে যাচ্ছে! আমাদের দেশের নারী, পুরুষ এবং শিশুদের কাছে কীভাবে আমরা একটি দুর্বল চুক্তি নিয়ে ফিরে যাব?’
তবে স্থানীয় সময় রোববার রাত ৩টার দিকে কিছু পরিবর্তনের পর দেশগুলো অবশেষে চুক্তিটি পাস করে। করতালি এবং আনন্দের মধ্য দিয়ে গৃহীত হয় এ চুক্তি। তবে ভারত এ ব্যাপারে হতাশা প্রকাশ করেছে। সম্মেলনে ভারতের প্রতিনিধি লীলা নন্দন বলেন, ‘আমরা এটি গ্রহণ করতে পারি না। প্রস্তাবিত লক্ষ্য আমাদের জন্য কিছুই সমাধান করবে না। এটি আমাদের দেশের বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় জলবায়ু কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।‘ তিনি অর্থের এই পরিমাণকে খুবই কম বলে অভিহিত করেন।
এরপর সুইজারল্যান্ড, মালদ্বীপ, কানাডা এবং অস্ট্রেলিয়াসহ আরো কয়েকটি দেশ অভিযোগ করে, বৈশ্বিকভাবে জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমানোর বিষয়ে যে ভাষা প্রয়োগ করা হয়েছে তা খুবই দুর্বল। মূলত এ ব্যাপারে কী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে তা ২০২৫ সালে পরবর্তী জলবায়ু আলোচনার জন্য স্থগিত রাখা হয়েছে।
চূড়ান্ত চুক্তি অনুযায়ী, ২০৩৫ সাল পর্যন্ত দরিদ্র দেশগুলোকে প্রতিবছর অন্তত ৩০০ বিলিয়ন ডলার দেবে উন্নত দেশগুলো। জলবায়ু তহবিলে জমা দেওয়া এই অর্থ দরিদ্র দেশগুলোর অর্থনীতিকে আরও পরিবেশবান্ধব করতে এবং দেশগুলোয় জলবায়ু সংকটের কারণে সৃষ্ট দুর্যোগ মোকাবিলায় খরচ করা হবে। বর্তমানে এই তহবিলে প্রতিবছর ১০০ বিলিয়ন ডলার জমা দিচ্ছে ধনী দেশগুলো।
তবে এই অর্থের প্রতিশ্রুতি এই স্বীকৃতি দেয় যে, দরিদ্র দেশগুলো জলবায়ু পরিবর্তনে সবচেয়ে কম ভূমিকা রাখলেও সবচেয়ে বড় শিকার তারাই। নতুনভাবে প্রতিশ্রুত এই অর্থ সরকারি অনুদান এবং বেসরকারি খাত - ব্যাংক এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সে সঙ্গে, এটি প্রধান দূষক দেশগুলোকে জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে নবায়নযোগ্য শক্তি ব্যবহারের দিকে এগিয়ে যেতে সহায়তা করবে।
এছাড়াও, দেশগুলো জলবায়ু পরিবর্তনের লক্ষ্যে প্রস্তুতি নেয়ার জন্য তহবিলকে তিনগুণ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। ঐতিহাসিকভাবে, জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য উপলব্ধ তহবিলের মাত্র ৪০ শতাংশ এ ধরনের প্রস্তুতির দিকে গেছে। ৩০০ বিলিয়ন ডলারের (২৩৮ বিলিয়ন পাউন্ড) প্রতিশ্রুতির পাশাপাশি, দেশগুলো ২০৩৫ সালের মধ্যে জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিরোধের জন্য ১.৩ ট্রিলিয়ন ডলার প্রয়োজন হবে বলে সম্মত হয়েছে।